পোস্টগুলি

দুর্গাপুজো শেষ, আবার অপেক্ষা সেই উমার আগমনের

ছবি
দুর্গাপুজো শেষ, আবার অপেক্ষা সেই উমার আগমনের শরতের নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, বাতাসে শিউলি ফুলের মিষ্টি সুবাস আর দূর থেকে ভেসে আসা ঢাকের আওয়াজ—সব মিলিয়ে যে আগমনী সুর একদিন বাঙালির হৃদয়ে আনন্দের জোয়ার এনেছিল, আজ সেই সুরেই মিশে আছে বিদায়ের বিষাদ। দেখতে দেখতে শেষ হয়ে গেল বাঙালির প্রাণের উৎসব দুর্গাপুজো। যে কয়েকটা দিনের জন্য শহর থেকে গ্রাম, অলিগলি থেকে রাজপথ—সবকিছু সেজে উঠেছিল আলোর সাজে, মানুষের মুখে ফুটেছিল আনন্দের হাসি, আজ সেখানেই ধীরে ধীরে নেমে এসেছে পরিচিত নীরবতা। মণ্ডপের আলো নিভেছে, ঢাকের বাদ্য থেমেছে, আর মর্ত্য ছেড়ে কৈলাসের পথে পাড়ি দিয়েছেন উমা। তবু কি এত সহজে শেষ হয় দুর্গাপুজো? পঞ্জিকার পাতায় উৎসবের দিন ফুরিয়ে যায় ঠিকই, কিন্তু মনের গভীরে তার রেশ থেকে যায় অনেক দিন। বিসর্জনের মুহূর্তে চোখের কোণে জমে থাকা জল আর কণ্ঠে উচ্চারিত সেই চিরচেনা প্রতিশ্রুতি—“আসছে বছর আবার হবে”—আমাদের বুঝিয়ে দেয়, এই বিদায়ের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে নতুন করে ফিরে পাওয়ার আশা। আজ তাই উৎসব শেষের এই বিষণ্ণ বিকেলে মন ফিরে যেতে চায় সেই আনন্দময় দিনগুলিতে। মনে পড়ে নতুন জামার গন্ধ, প্রিয়জন...

মিনির হাসিতে যে বাবা নিজের মেয়েকে খুঁজে পেয়েছিল

ছবি
মিনির হাসিতে যে বাবা নিজের মেয়েকে খুঁজে পেয়েছিল কিছু সম্পর্কের কোনও নাম হয় না। কিছু টান কোনও পরিচয়ের অপেক্ষা রাখে না। আর কিছু ভালোবাসা—দূরত্ব, দেশ, ধর্ম, ভাষা সবকিছুকে অতিক্রম করে নিঃশব্দে হৃদয়ে জায়গা করে নেয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘কাবুলিওয়ালা’ এমনই এক অমলিন গল্প। এটি শুধু ছোট্ট মিনি আর আফগান ফলওয়ালা রহমতের গল্প নয়; এটি একজন বাবার হৃদয়ের গল্প—যে দূর পরবাসে থেকেও নিজের ছোট্ট মেয়েকে এক মুহূর্তের জন্য ভুলতে পারেনি। অচেনা শহরে এক অদ্ভুত পরিচয় কলকাতার এক বাড়িতে থাকত ছোট্ট মিনি। তার পৃথিবী ছিল ছোট, কিন্তু কৌতূহল ছিল অফুরন্ত। সারাক্ষণ কথা বলা, প্রশ্ন করা আর নিজের সরল আনন্দে চারপাশ ভরিয়ে রাখা ছিল তার স্বভাব। সেই শিশুমনেই একদিন এসে জায়গা করে নিল দূর আফগানিস্তান থেকে আসা এক কাবুলিওয়ালা—রহমত। রহমত ছিল মিনির কাছে সম্পূর্ণ অচেনা একজন মানুষ। তার পোশাক, চেহারা, ভাষা—সবই ছিল মিনির পরিচিত জগতের বাইরে। অথচ অদ্ভুতভাবে সেই অচেনা মানুষটির সঙ্গেই ছোট্ট মেয়েটির তৈরি হয়ে গেল এক নির্মল বন্ধুত্ব। মিনির সরল হাসি আর অবিরাম কথায় রহমতের ক্লান্ত মন যেন একটু শান্তি পেত। কারণ মিনির মধ্যে...

সাহিত্য সৃষ্টি কীভাবে হলো? মানুষের অনুভূতি থেকে সাহিত্যের জন্ম

ছবি
সাহিত্য সৃষ্টি কীভাবে হলো? মানুষের অনুভূতি থেকে সাহিত্যের জন্ম সাহিত্য কীভাবে সৃষ্টি হলো—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আমাদের ফিরে যেতে হয় সেই সুদূর অতীতে, যখন মানুষের হাতে ছিল না কলম, ছিল না বই, ছিল না ছাপাখানা। কিন্তু ছিল একটি হৃদয়—যে হৃদয় অনুভব করত, ভালোবাসত, কাঁদত, স্বপ্ন দেখত এবং হারানোর ব্যথায় নীরবে কেঁপে উঠত। সেখানেই হয়তো সাহিত্যের প্রথম জন্ম। সাহিত্য সৃষ্টির শুরু কীভাবে? ভাবুন, হাজার হাজার বছর আগের কোনো এক সন্ধ্যা। চারদিকে অন্ধকার। আগুনের চারপাশে কয়েকজন মানুষ বসে আছে। দিনের শিকার, জঙ্গলের ভয়, প্রকৃতির বিস্ময় কিংবা কোনো অদ্ভুত ঘটনা—একজন আরেকজনকে বলছে। তখন তারা হয়তো জানত না, তারা গল্প বলছে। জানত না, এই গল্প বলার প্রবণতাই একদিন মানবসভ্যতার অন্যতম সুন্দর সৃষ্টি—সাহিত্য হয়ে উঠবে। মানুষ যখন নিজের অভিজ্ঞতা অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাইল, তখনই গল্পের প্রথম বীজটি বোনা হয়েছিল। অনুভূতি থেকেই সাহিত্যের জন্ম মানুষ শুধু পৃথিবীকে দেখেনি, পৃথিবীকে অনুভব করেছে। প্রিয় মানুষকে হারিয়ে চোখে জল এসেছে। ভালোবাসার মানুষকে কাছে পেয়ে হৃদয় আনন্দে ভরে উঠেছে। বৃষ্টির শব্দে মনে পড়...

মাতালের কাণ্ড: “তোমার কী?” — মজার ছোট গল্প

ছবি
মাতালের কাণ্ড: “তোমার কী?” — মজার ছোট গল্প পাড়ায় একজন দাদা আছেন। মানুষ হিসেবে বেশ ভালো, হাসিখুশি, সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেন। তবে একটা অভ্যাস আছে—সন্ধ্যা হলেই বোতলের সঙ্গে তাঁর দেখা করতেই হবে! 😄 একদিন সন্ধ্যায় রাস্তার মোড়ে দাদার সঙ্গে দেখা। দেখলাম, দাদা বেশ খুশি মনে বাড়ির দিকে যাচ্ছেন। হাঁটার গতি দেখে মনে হলো, রাস্তার সঙ্গে তাঁর একটু মতের অমিল চলছে! 😂 আমি মজা করে বললাম, — “এই দাদা, রোজ রোজ মাল খান কেন?” দাদা হঠাৎ দাঁড়িয়ে গেলেন। আমার দিকে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থেকে বললেন, — “তোমার কী?” আমি একটু থমকে গেলাম। বললাম, — “না দাদা, এমনি জিজ্ঞেস করলাম।” দাদা এবার আরও গম্ভীর হয়ে বললেন, — “আমার পয়সা, আমি খাই। তোমার কী অসুবিধা?” আমি মনে মনে ভাবলাম, কথাটা কিন্তু একেবারে ফেলনা নয়! 😐 সত্যিই তো—পয়সা দাদার, মদ দাদার, খাওয়াও দাদার। তাহলে আমি এত চিন্তা করছি কেন? 😂 তাই বেশি কথা না বাড়িয়ে বললাম, — “দাদা, ভুল হয়ে গেছে। আমাকে ক্ষমা করবেন।” 🙏 দাদা তখন এমন একটা ভাব নিলেন, যেন আমি তাঁর মদ খাওয়া নিয়ে নয়, তাঁর সম্পত্তির ভাগ চেয়ে বসেছিলাম! আমি চুপচাপ বাড়ির দিকে হাঁটা দিলাম। ক...

শেষ বাসের যাত্রী ⭐

ছবি
                           শেষ বাসের যাত্রী ⭐ রাত তখন অনেকটা গভীর। অফিস থেকে বেরোতে বেরোতে ঘড়ির কাঁটা দশটা পেরিয়ে গেছে। সারাদিনের ক্লান্তি নিয়ে রাহুল দ্রুত পা বাড়াল বাসস্ট্যান্ডের দিকে। দূর থেকে সে দেখতে পেল—শেষ বাসটি দাঁড়িয়ে আছে। রাহুল দৌড়াতে শুরু করল। কিন্তু ভাগ্য যেন সেদিন তার সঙ্গে ছিল না। সে বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছানোর আগেই বাসটি ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই লাল আলোটা অন্ধকার রাস্তায় মিলিয়ে গেল। রাহুল নিঃশব্দে বেঞ্চে বসে পড়ল। চারপাশ তখন প্রায় জনশূন্য। হঠাৎ আকাশের বুক চিরে বৃষ্টি নামল। প্রথমে টুপটাপ, তারপর ধীরে ধীরে ঝমঝম করে। ঠিক তখনই পাশ থেকে একটি শান্ত কণ্ঠ ভেসে এল— — “বাসটা চলে গেল বলে এত মন খারাপ?” রাহুল তাকিয়ে দেখল, পাশে এক বৃদ্ধ বসে আছেন। মুখে অদ্ভুত এক প্রশান্ত হাসি। রাহুল বলল, — “এটাই শেষ বাস ছিল। এখন বাড়ি ফিরব কী করে বুঝতে পারছি না।” বৃদ্ধ কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর মৃদু হেসে বললেন, — “জীবনে সব পথ আমাদের ইচ্ছেমতো খোলা থাকে না। কখনও কখনও যে পথটা বন্ধ হয়ে যায়, তার আড়ালেই অন্য ক...

বৃষ্টিভেজা দিনে কবিতার কথা

ছবি
বৃষ্টিভেজা দিনে কবিতার কথা বৃষ্টি নামলেই শহরটা যেন একটু ধীর হয়ে যায়। ব্যস্ত রাস্তার শব্দ কমে আসে, জানালার কাঁচে জমে থাকে ছোট ছোট জলের ফোঁটা। আর সেই মুহূর্তেই মনে পড়ে যায় পুরোনো কোনো কবিতা, কোনো প্রিয় মানুষের কথা, কিংবা ফেলে আসা কোনো বিকেল। বৃষ্টির সঙ্গে কবিতার সম্পর্ক যেন বহু পুরোনো। কখনও বৃষ্টি নিয়ে আসে প্রেম, কখনও বিরহ, আবার কখনও এক অদ্ভুত শান্তি। ছাদে টুপটাপ শব্দ, ভেজা মাটির গন্ধ আর দূরের আকাশ—সব মিলিয়ে মনটা নিজের অজান্তেই কবিতার কাছে ফিরে যায়। আমরা হয়তো প্রতিদিনের ব্যস্ততায় কবিতা পড়ার সময় পাই না। কিন্তু বৃষ্টির দিনে একটু সময় নিয়ে জানালার পাশে বসে একটি কবিতা পড়লে কেমন যেন মনটা হালকা হয়ে যায়। বৃষ্টি তাই শুধু জল নয়—বৃষ্টি কখনও স্মৃতি, কখনও অনুভূতি, আর কখনও একটি অসমাপ্ত কবিতা। শেষ কথা আজ যদি বাইরে বৃষ্টি নামে, একটু সময় নিজের জন্য রাখুন। মোবাইলটা পাশে রেখে শুনুন বৃষ্টির শব্দ। হয়তো দেখবেন, আপনার মনের মধ্যেও নিঃশব্দে একটি কবিতা লেখা হয়ে গেছে। আপনার কাছে বৃষ্টি মানে কী—প্রেম, স্মৃতি নাকি একাকিত্ব? মতামত কমেন্টে জানাতে পারেন। ❤️ SEO Title: বৃষ্টিভেজা দিনে কব...

২২ শ্রাবণ: বৃষ্টিভেজা দিনে কবিগুরুকে স্মরণ

ছবি
২২ শ্রাবণ: বৃষ্টিভেজা দিনে কবিগুরুকে স্মরণ ২২ শ্রাবণ এলেই আকাশটা যেন একটু বেশি মেঘলা হয়ে ওঠে। বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটায় যেন মিশে থাকে এক অদৃশ্য বিষাদ। ভেজা মাটির গন্ধ, জানালার কাঁচে বৃষ্টির শব্দ আর দূরে কোথাও ভেসে আসা রবীন্দ্রসংগীত—সব মিলিয়ে এই দিনটি বাঙালির হৃদয়ে এক অন্যরকম অনুভূতি জাগিয়ে তোলে। কারণ ২২ শ্রাবণ মানেই কবিগুরুকে স্মরণ করার দিন। যে মানুষটি তাঁর শব্দ দিয়ে বাঙালির হাসি-কান্না, প্রেম-বিরহ, আনন্দ-বেদনা আর প্রকৃতির সৌন্দর্যকে ভাষা দিয়েছিলেন, সেই বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ২২ শ্রাবণেই আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু সত্যিই কি তিনি চলে গিয়েছেন? না। তিনি আজও আছেন। আছেন বর্ষার মেঘে, শরতের সাদা কাশফুলে, বসন্তের বাতাসে। আছেন প্রেমিকের চিঠিতে, মায়ের চোখের জলে, একাকী মানুষের নীরবতায়। আছেন বাঙালির গান, কবিতা ও হৃদয়ের গভীরে। ২২ শ্রাবণ—একটি তারিখের চেয়েও অনেক বেশি বাংলা ১৩৪৮ সালের ২২ শ্রাবণ, ইংরেজি ৭ আগস্ট ১৯৪১—কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে থেমে গিয়েছিল কবিগুরুর জীবনের স্পন্দন। সেদিন শুধু একজন মানুষের মৃত্যু হয়নি। যেন বাংলা সাহিত্যের আকাশ থেকে একটি বিশাল নক্ষত্রের আলো নিভে গিয়...